ফ্রি সরকারি প্রশিক্ষণ ও ভাতা প্রদান | যাকে বলে বেকার ভাতা

3
538

ফ্রি সরকারি প্রশিক্ষণ ও ভাতা প্রদান | যাকে বলে বেকার ভাতা


আপনি কি জানেন, সরকার তরুণদের কারিগরি খাতে ফ্রি প্রশিক্ষণ দেয়। এসব ট্রেনিং করে ট্রেনার হওয়া যায় আবার নানা কাজ পাওয়া যায়। মোটকথা বেকার থাকা লাগে না। ভাতাসহ চার বছরমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের তথ্য জেনে নিন:

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী গত এক বছরে দেশে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার। বর্তমানে ২৬ লাখ ৮০ হাজার নারী-পুরুষ বেকার। দিনের পর দিন বসে থেকে এসব তরুণের কর্মক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে।এসব বেকার তরুণ-তরুণীকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্মত চাকরির ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট (স্টেপ) প্রজেক্ট শীর্ষক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর অধীনে কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক ক্রমান্বয়ে দেশের দেড় লাখ তরুণকে বৃত্তিসহ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিন মেয়াদি প্রশিক্ষণ :
৯ বছর মেয়াদি (জুলাই ২০০৯ থেকে ২০১৯) এ প্রকল্পে যৌথভাবে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্বব্যাংক ও কানাডা। ১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর।
প্রতিষ্ঠানটি তিন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ, ৬ মাসমেয়াদি, ডিপ্লোমা কোর্স চার বছরমেয়াদি এবং তিন দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে; যেটিকে অভিজ্ঞতা সনদও বলা হয়ে থাকে।

যেসব বিষয় প্রশিক্ষণ :
সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ৬৪টি প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (কনস্ট্রাকশন), মোটরসাইকেল সার্ভিসিং, প্লাম্বিং, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ওয়েল্ডিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, সুইং মেশিন অপারেশন, আইটি সাপোর্ট, সোলার ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিংসহ ৩২ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি করা হয়।

আবেদনের যোগ্যতা :
৪ বছরমেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে কমপক্ষে এসএসসি পাস যে কোনো শিক্ষার্থী ভাতাসহ চার বছরমেয়াদি ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ৯৩টি পলিটেকনিকে ১২টি বিষয়ে তারা এ ডিপ্লোমা পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতি বিষয়ে ১২০ জন করে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

বৃত্তিসহ প্রশিক্ষণ :
সরকারের দারিদ্র্যবিমোচন কৌশলের অংশ হিসেবে ও পেশাগত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাও দেয়া হচ্ছে।নির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি ৯৩টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ইতিমধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার ২৪৭ ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীকে মাসে ৮০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার্থী সবাই এ বৃত্তি পেয়েছেন। নতুনদেরও দেয়া হবে।

শিক্ষক নিয়োগ :
এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ৪৯টি পলিকেটনিকে শূন্য পদের বিপরীতে এক হাজার ১৭৩ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের দেশে-বিদেশে সাবজেকটিভ প্যাডাগোজি ফাউন্ডেশন ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট এবং আর্থিক সহায়তাসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের অধীনে ৩৩টি পলিকেটনিকের মানোন্নয়নে প্রত্যেকে প্রতিষ্ঠানকেই সর্বোচ্চ সাত কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এমনকি ওয়ার্কশপ-ল্যাবরেটরির জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার সরবরাহ করা করা হয়েছে।
তিনি জানান, একদিকে যেমন বিনামূল্যে শিক্ষারব্যবস্থা করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে বৃত্তি পাচ্ছে। এছাড়া ডিপ্লোমা কোর্স শেষে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

যেভাবে আবেদন :
আগ্রহী প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট আরপিএল অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রগুলো থেকে বা প্রকল্পের ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। নিবন্ধন ফরমে প্রার্থীর নাম, পিতা-মাতার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, কর্মস্থলের ঠিকানা, পদবি, পছন্দের বিষয়, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
ফরমের সঙ্গে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র, পরীক্ষা পাসের সনদসহ লিখিত আবেদনপত্র প্রার্থীর কাছের বা পছন্দের কেন্দ্রের অধ্যক্ষ বরাবর জমা দিতে হবে।

বিস্তারিত জানতে :
স্টেপের ২০টি আরপিএল অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রসহ বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ), কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এফ-৪/বি, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা ১২০৭ এ ঠিকানায় অথবা ফোন করতে পারেন ০১৯৯২-০০৭১৩৭ এ নম্বরে। এছাড়া www.step-dte.gov.bd এ ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।

ফ্রি-সরকারি-প্রশিক্ষণ-ও -ভাতা-প্রদান-যাকে-বলে-বেকার-ভাতা

দক্ষতা বাতায়ন নিয়ে সকল প্রশ্ন


দক্ষতা বাতায়ন কী? 

দক্ষতা বাতায়ন হল বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে একটি অনলাইন দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দক্ষতা প্রদানকৃত প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছে এবং খুব শ্রিঘ্রিই সকল প্রতিষ্ঠান যুক্ত হবে এবং এর সাথে বিভিন্ন চাকরি প্রদানকৃত প্রতিষ্ঠান ও এর সাথে যুক্ত হচ্ছে। যার ফলে এই বাতায়নের মাধ্যমে আপনারা খুব সহজে কোথায় কোথায় ফ্রি অথবা সহজলভ্য প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে এবং কোথায় চাকুরি পাওয়া যারে তা আপনারা জানতে পারবেন এবং কিছুক্ষেত্রে এইখানে আবেদন ও করতে পারবেন।এবং আপনার যেকোনো সমস্যার জন্য ব্লগের মাধ্যমে এইখানে জানাতে ও পারবেন।

দক্ষতা বাতায়ন কেন?
বাংলাদেশ কে উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করার জন্য এবং বাংলাদেশের যুব সমাজের তালিকা গঠন ও তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে তৈরি হয়েছে দক্ষতা বাতায়ন। যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের ভর্তির সময়সীমা অনুয়ায়ী আবেদন করে ভর্তি হতে পারবে এবং দক্ষতা নেওয়ার পর অথবা যদি পূর্বেই দক্ষতা থেকে থাকে তবে সনদ পত্রগুলো এই বাতায়নে স্কেনের মাধ্যমে আপলোড করে সরাসরি এই বাতায়নে নিবন্ধিত ১০০০ কোম্পনির বিভিন্ন জব সার্কুলারে আবেদন করতে পারবেন।

দক্ষতা বাতায়নের মাধ্যমে কোন সনদ পত্র প্রদান করা হবে কি না?

না, দক্ষতা বাতায়নের মাধ্যমে কোন সনদ পত্র প্রদান করা হবে না। এই বাতায়নের দ্বারা শুধু মাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও চাকরি প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের  সাথে যুবদের সম্বন্ময় করে দক্ষ জনশক্তি ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে চাকরির প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

দক্ষতা বাতায়নের মাধ্যমে কোথায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে?

দক্ষতা বাতায়নে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের প্রথম তাদের নিজ নিজ এলাকাতে প্রশিক্ষন প্রদানের জন্য চেষ্টা করা হবে। যেহেতু বাংলাদেশে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বেশি তাই এইটা খুবই স্বাভাবিক যে এলাকার প্রশিক্ষণ প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই পরিমানে সিট না ও থাকতে পারে যার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিবন্ধিতদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং অন্যান্য জেলা গুলোতে সরকারি আবাসিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গুলোতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

দক্ষতা বাতায়নের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হবে কি না?

না, দক্ষতা বাতায়নের মাধ্যমে কোন চাকরি প্রদান করা হবে না। দক্ষতা বাতায়ন ব্যক্তির সাথে প্রতিষ্ঠানের স্বন্ময় সাধন করা।চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর তা পরে তাতে আবেদন করা ও সেই ব্যক্তিকে নির্ধারিত পরীক্ষার ভিত্তিতে বাছাই করা সম্পূর্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দ্বায়িত্ব ইহার দ্বায়িত্ব দক্ষতা বাতায়নের ন্য।কিন্তু কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন “বিটাক নিবন্ধণ“ এরুপ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সকল ব্যক্তিকে চাকরি প্রদানের চেষ্টা করা হয় কিন্ত ইহা শুধু বিশেষ বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য। এছাড়া বিভিন্ন জব ফেয়ারে দক্ষতা বাতায়নে নিবন্ধিতদের সাথে দক্ষতা বাতায়ন দ্বারা যোগাযোগের মাধ্যমে দক্ষব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠান তাদের দক্ষতা যাছাইয়ের পর তাকে পচ্ছন্দ হলে চাকরি প্রদান করবে।

  • স্কীলে যে প্রক্রিয়াআপনি নিবন্ধণ করতে পারেন সেই ঠিকানা: http://skills.gov.bd/bitac-registration
  • বিটাকে রেজিষ্ট্রেশন ও বেকার ভাতা সহ বিভিন্ন তথ্য দেখুন  http://www.bitac.gov.bd/
  • যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যে ঠিকানায় আপনি বেকার সমস্যার সমাধান করতে পারেন তার ঠিকানা নিম্নে : http://dyd.gov.bd/

  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যেখানে মহিলাদের উন্নয়নের জন্য বেকার সমস্যা সমাধান করার উপায় রয়েছে দেখতে পারেন: http://www.dwa.gov.bd/
  • সমাজসেবা অধিদফতর-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার http://www.dss.gov.bd/

    এই সমস্ত ঠিকানা ছাড়াও গুগলে সার্চ দিলে পাবেন তাই জেনে বুঝে তার পর পা বাড়ান। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

 

3 মন্তব্য

  1. ভাই মন্তব্য কি লিখবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, এক জন মহিলা এসেছে ন্যাশন্যাল সার্ভিসে আবেদন করবে। আমি বলেছি ন্যাশন্যাল সার্ভিস না বিটাক এ আবেদন করা যায় যাহা ন্যাশন্যাল সার্ভিসের মত। যাইহোক, সে রাজি হল বিটাক এ আবেদন করে দিয়ে দিয়েছি। বেচারি বাসায় চলে গেছে। বাসা থেকে বিকালে ফিরে এসে বলে আপাকে বললাম ন্যাশন্যাল সার্ভিসে আবেদন করতে আপনি দিলেন কিসের বিকাশ ফিকাস , আমি বললাম আপু এটি বিকাশ না বিটাক কে সুনে কার কথা আমার উপর চড়াও হইয়া গেল।

  2. বেকার ভাতা আবেদন আবার কবে ছাড়বে সেটা জানালে খুবই উপকৃত হবো৷

আপনার মন্তব্য লেখার জন্য..

Please enter your comment!
Please enter your name here