ট্রাফিক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোড সাইন এর প্রশ্ন ও উত্তর

0
470
Driving license

প্রশ্ন:  শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স কীভাবে পাইবেন? 
উত্তর: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বি,আর,টি,এ) অফিস হইতে ছাপানো আবেদনপত্র ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের জন্য ফরম সংগ্রহ করিতে হইবে। মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের ফরমটি একজন রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক পূরণ করতে হইবে। এরপর আবেদনপত্রটি যথাযথভাবে পূরণ করিয়া এবং নির্ধারিত ফি সংশ্লিষ্ট পোষ্ট অফিসে জমা দিয়া তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ফটোসহ বি,আর,টি,এ অফিসে জমা দিতে হইবে। আবেদনপত্র পাওয়ার পর যথাযথ বিবেচিত হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ তিন মাসের জন্য শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করিয়া থাকেন। অত:পর কর্তৃপক্ষের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করিতে হইবে।

প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স কীভাবে পাইবেন?
উত্তর: ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইতে হইলে আপনাকে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেওয়া শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কালের মধ্যে ধার্যকৃত ফিস জমা দিয়া নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে। আবেদনপত্র পাওয়ার পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত তারিখে আপনাকে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করিতে হইবে।\n\nলিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হইবার পর আপনি মোটরযানের যে শ্রেণীর (যথা-মোটরকার, মোটর সাইকেল, বেবীটেক্সী বা হালকা মোটরযান) মোটরযানের জন্য আবেদন করিয়াছেন, সেই শ্রেণীর গাড়ী নিয়া বি,আর,টি,এ অফিসের নির্ধারিত স্থানে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করিতে হইবে। এই ব্যবহারিক পরীক্ষায় তিনটি ধাপে সম্পন্ন হইয়া থাকে। যথা-১) জিগ জ্যাগ টেষ্ট, ২) র‌্যাম্প টেস্ট ও ৩) রোড টেষ্ট।\n\n উক্ত তিন পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করিবেন। মধ্যম মানের ও ভারী যানবাহনের লাইসেন্স পাইতে হইলে আপনার অবশ্যই একটি হালকা মোটরযানের লাইসেন্স থাকিতে হইবে এবং তিন বৎসর অতীত না হইলে আপনি উক্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন না।

প্রশ্ন: কী কী বিষয়ের উপর লিখিত পরীক্ষা হয়?
উত্তর: দিনটি বিষয়ের উপর লিখিত পরীক্ষা হয়। যথা: ক) রোড সাইন, ট্রাফিক সিগন্যাল ও ট্রাফিক চিহৃ বিষয়ে, খ) ট্রাফিক নিয়মাবলী, গ) মোটরযান ও ইহার ইঞ্জিন সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান বিষয়ে।

প্রশ্ন: লিখিত পরীক্ষায় কত সময় দেওয়া হয় এবং পরীক্ষায় পাশ করার শতকরা হার কত? 
উত্তর: লিখিত পরীক্ষার জন্য সাধারনত:২৫ হইতে ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয় এবং শতকরা ৬৬ ভাগ মার্ক পাইলে উর্ত্তীণ হওয়া যায়।

প্রশ্ন: লিখিত পরীক্ষা কি ধরণের প্রশ্ন থাকে? 
উত্তর: ক) উপরে উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের উপর ছোট ছোট প্রশ্ন থাকে যাহাতে অল্প কথায় উত্তর দেওয়া যায়। (প্রশ্ন পত্রের প্রত্যেকটি প্রশ্নের নীচে যে ফাঁকা জায়গা থাকে সেই অংশেই উত্তর লিখিতে হইবে। \n\nঅথবা- খ)প্রশ্নপত্রে প্রত্যেকটি প্রশ্নের একাধিক উত্তর দেওয়া থাকে। যে উত্তরটি সঠিক তাহাতে টিক চিহৃ দিতে হয় এবং কয়েকটি ছোটছোট প্রশ্ন থাকে যাহার উত্তর নিজ হাতে লিখিতে হয়।

প্রশ্ন:  কোন কোন বিষয়ের উপর মৌখিক পরীক্ষা হয়?
উত্তর: রোড সাইন, ট্রাফিক সিগন্যাল ও ট্রাফিক চিহৃ গুলিকে বাস্তবে চিনিতে পারে কিনা এবং মোটরযান ও ইহার ইঞ্জিন সম্বন্ধে বাস্তব ধারনা আছে কি না। তদুপরি বয়স ও শারীরিক দিক হইতে উপযুক্ত কিনা ইত্যাদি বিষয়ে মৌখিক প্রশ্ন করা হয়।

প্রশ্ন: জিগজ্যাগ টেষ্টের জন্য মাঠে যে আঁকা বাঁকা রাস্তা মার্কিং করা হয় তাহার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কীভাবে ধার্য করা হয়? 
উত্তর: গাড়ীর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের দেড়গুন ধরিয়া মাঠে মার্কিং করা হয়। অর্থাৎ মার্কিং করা রাস্তার প্রস্থ গাড়ীর প্রস্থের দেড়গুন এবং বাঁক গাড়ীর দৈর্ঘ্যের দেড়গুন ধরিয়া মাঠ মার্কিং করা থাকে।

প্রশ্ন:  মাঠ পর্যায়ে যে পরীক্ষার কথা বলা হইয়াছে তাহা কী সব শ্রেণীর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য? 
উত্তর: না। ইহা শুধু হালকা মোটরযানের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য। মধ্যম মানের ও ভারী যানবহনের লাইসেন্সের জন্য উক্ত পরীক্ষা ছাড়াও রাস্তায় গাড়ী চালাইয়া ড্রাইভিং পারদর্শীতা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়। সেই সঙ্গে গাড়ীর কী কী ত্রুটি হইতে পারে এবং সেই ত্রুটি নিরুপনে দক্ষতা যাচাই করা হয়। মধ্যম মানের ও ভারী যানবাহনের লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি তিন বৎসরের পূর্বে এই পরীক্ষা দিতে পারে না।

প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স কতদিন পর নবায়ন করিতে হয়?
উত্তর: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে দশ বৎসর পর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পাঁচ বৎসর পর নবায়ন করিতে হয়।

প্রশ্ন: লাইসেন্স পাইতে হইলে বয়স ও শিক্ষাগত যোগত্যা বিষয়ে আইনের কী বিধান আছে? 
উত্তর: ক) অপেশাদার ড্রাইভারের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে লিখিতে ও পড়িতে পারে এবং নুন্যতম বয়স ১৮ বৎসর।\n\nখ)পেশাদার ড্রাইভারের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে লিখিতে ও পড়িতে পারে এবং নুন্যতম বয়স ২০ বৎসর।

প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মোটরযানকে কয় শ্রেণীতে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
১১) উত্তর: ৫ শ্রেণীতে। যথা: ক) হালকা মোটরযান, খ)মধ্যমমানের মোটরযান, গ)ভারী মোটরযান, ঘ) মোটর সাইকেল, ঙ)মোটরক্যাব।

প্রশ্ন: হালকা মোটরযান কাহাকে বলে?
উত্তর: যে সমস্ত মোটরযানের ওজন ৬০০০ পাউন্ডের অধিক নয় এবং সীটের সংখ্যা চালকসহ ১২ জনের বেশী নয়।

প্রশ্ন: মধ্যম মানের মোটরযান কাহাকে বলে?
উত্তর: যে সমস্ত মোটরযানের ওজন ৬০০০ পাউন্ড হইতে ১৪৫০০ পাউন্ড এর অধিক নয় এবং সীটের সংখ্যা চালকসহ ৩১ জনের অধীক নয়।

প্রশ্ন:  ভারী মোটরযান কাহাকে বলে?
উত্তর: যে সমস্ত মোটরযানের ওজন ১৪৫০০ পাউন্ডের অধিক এবং সীটের সংখ্যা চালকসহ ৩১ জনের বেশী।

প্রশ্ন: শ্রেণী অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সকে কয় শ্রেণীতে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর: লাইসেন্সের শ্রেণী অনুয়ায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সকে নিম্ন লিখিত পাঁচ শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যথা:- ১)শিক্ষানবীস ড্রাইভিং লাইসেন্স, ২)অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স, ৩)পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স, ৪)পি,এস,ভি লাইসেন্স, ৫)ইন্সট্রাকটর লাইসেন্স।

প্রশ্ন: পেশাদার ড্রাইভার কাহাকে বলে?
উত্তর: ড্রাইভিংকে যে পেশা হিসাবে গ্রহন করে এবং যে বেতন ভোগী কর্মচারী হিসাবে অন্যের গাড়ী চালায়।

প্রশ্ন:  অপেশাদার ড্রাইভার কাহাকে বলে?
উত্তর: এমন একজন ড্রাইভার যে কাহারো বেতনভোগী কর্মচারী না হইয়া কোন হালকা মোটরযান চালায়, অথবা পরিবহনযান ভিন্ন অন্যান্য গাড়ী চালায়।

প্রশ্ন: রোড সাইন বা ট্রাফিক চিহৃকে কয় শ্রেণীতে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর: রোড সাইন বা ট্রাফিক চিহৃকে নিম্নলিখিত তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যথা- ১)বাধ্যতামলূক, ২)সতর্কতামূলক, ৩)তথ্যমূলক।

প্রশ্ন:  আকৃতি অনুয়ায়ী ট্রাফিক চিহৃ সমূহকে কয় শ্রেণীতে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর: আকৃতি অনুয়ায়ী ট্রাফিক চিহৃ সমূহকে নিম্নলিখিত তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যথা-১) বৃত্ত আকৃতি, ২)ত্রিভূজ আকৃতি, ৩)আয়তক্ষেত্র আকৃতি

প্রশ্ন: ট্রাফিক চিহৃ লাল রং থাকিলে তাহা কী নির্দেশ করে?
উত্তর: ট্রাফিক চিহৃ লাল রং বাধ্যতামূলক নিষেধ চিহৃ হিসাবে এবং সতর্কীকরণ চিহৃ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন: নীল রং কী নির্দেশ করে? 
উত্তর: ট্রাফিক চিহৃ নীল রং হ্যাঁ বাচক চিহৃ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন: সবুজ রং কী নির্দেশ করে?
উত্তর: ট্রাফিক চিহেৃ সবুজ রং তথ্যমূলক চিহৃ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন: লাল বৃত্ত চিহৃ কী নির্দেশ করে? 
উত্তর: ট্রাফিক চিহেৃ লাল বৃত্ত চিহৃ বাধ্যতামূলক নিষেধ নির্দেশ করে।

প্রশ্ন: লাল ত্রিভুজ চিহৃ কী নির্দেশ করে? 
উত্তর: লাল ত্রিভুজ চিহৃ সতর্ক হওয়ার জন্য নির্দেশ করে।

প্রশ্ন: নীল বৃত্ত চিহৃ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: বাধ্যতামুলক হ্যাঁ বাচক চিহৃ হিসাবে নির্দেশ করে।

প্রশ্ন: নীল আয়তক্ষেত্র চিহৃ কী নির্দেশ করে? 
উত্তর: নীল আয়তক্ষেত্র চিহৃ সাধারণত তথ্যমুলক ফলক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন: সবুজ আয়তক্ষেত্র চিহৃ কী নির্দেশ করে? 
উত্তর: রাস্তার দিক নির্দেশের জন্য সবুজ আয়তক্ষেত্র চিহৃ ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন: লাল বৃত্তের ভিতরে ৬০ কি:মি: লেখা থাকিলে কী বুঝায়?
উত্তর: গাড়ীকে সবোর্চ্চ গতি ৬০ কি:মি: এর বেশী দেওয়া যাইবে না।

প্রশ্ন: নীল বৃত্তের ভিতরে ৫০ কি:মি: লেখা থাকিলে কী বুঝায়? 
উত্তর: গাড়ীর সর্বনিম্ন গতি ৫০ কি: মি: এর কম করা যাইবে না।

প্রশ্ন: পাশাপাশি গাড়ী চালাইবেন না”—-এই সংকেতটি বুঝাইতে কী ধরনের চিহৃ ব্যবহৃত করা হয়? 
উত্তর: লাল বৃত্তের ভিতরে পাশাপাশি দুইটি গাড়ীর ছবি এবং বাম পাশের গাড়ীটি লাল রংয়ের।

প্রশ্ন: ওভার টেকিং করা নিষেধ বুঝাইতে কী ধরনের চিহৃ ব্যবহৃত হয়? 
উত্তর: লাল বৃত্তের ভিতরে পাশাপাশি দুইটি গাড়ীর ছবি এবং ডান পাশের গাড়ীটি লাল রংয়ের।

এই পোষ্টটি যদি ভাল লাগে তবে অবশ্যই আপনি শেয়ার করতে ভুলবেন না, অনুরোধ আর বাকী অনেক সাইন, প্রশ্ন, উত্তর, এক যাবতীয় সমাধাণ পাবেন আপনি আমাদের একটি অ্যাপসের মাধ্যমে – অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে গুগল প্লে-ষ্টোর থেকে বাংলায় লিখুন ” ডিজিটাল বাংলা” লিখে সার্চ দিন অথবা এই লিংক থেকে সরাসরি ডাউনলোড করুন https://goo.gl/yTQpAU। ধন্যবাদ সবাইকে।

আপনার মন্তব্য লেখার জন্য..

Please enter your comment!
Please enter your name here